
সিবিএল: কক্সবাজার, বাংলাদেশ: সমুদ্রের গর্জন, লাল-সাদার আবেশ আর মানুষের মিলনমেলায় কক্সবাজারে উদযাপিত হলো এক স্মরণীয় “বৈশাখী উল্লাস”। নেক্সশিখন ও বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেলের যৌথ আয়োজনে এই উৎসব যেন শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না—এটি ছিল অনুভূতির, সংস্কৃতির এবং নতুন সম্ভাবনার এক অনন্য উদযাপন, যা উপস্থিত সবার হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকবে।
বর্ণাঢ্য এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় টেকনাফ হল, বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেলে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভরে ওঠে পুরো ভেন্যু, যেখানে অংশ নেন হাজারো পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম, নির্বাহী পরিচালক, পালস বাংলাদেশ সোসাইটি। তিনি তাঁর বক্তব্যে এই আয়োজনকে সামাজিক সম্প্রীতি, স্থানীয় উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহানারা ইসলাম, প্রেসিডেন্ট, ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, যিনি নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তামান্না নওরীন আজম, নির্বাহী পরিচালক, নেক্সশিখন, যিনি বলেন—এই আয়োজন শুধু আনন্দের নয়, এটি নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিংশুক চক্রবর্তী, জেনারেল ম্যানেজার, বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেল, যিনি পর্যটন ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এই আয়োজনে ১৮ জন উদ্যমী উদ্যোক্তা তাদের সৃজনশীল পণ্য ও সেবা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি স্টল ছিল স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং সফলতার এক একটি গল্প, যা দর্শনার্থীদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। পাশাপাশি, ঐতিহ্যবাহী নানা রকম খাবারের আয়োজন উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই বৈশাখী উল্লাস প্রমাণ করেছে—উৎসব শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়, এটি মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। কক্সবাজারের এই আয়োজন তাই একটি দিনের স্মৃতি নয়, বরং এক দীর্ঘস্থায়ী অনুভূতি।
আয়োজক নেক্সশিখনের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজনের মাধ্যমে কক্সবাজারকে একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক ও উদ্যোক্তা-বান্ধব গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।
এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।