
ডেস্ক রিপোর্ট | সিবিএল
শবে বরাত উপলক্ষে দেশে বহু পরিবারে মাংস রান্না, হালুয়া-রুটি তৈরি ও ফাতেহার আয়োজন একটি প্রচলিত সামাজিক ও ধর্মীয় চর্চা। তবে প্রতি বছরই এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—এসব আমল কি ইসলামে জায়েজ, নাকি বিদআত?
ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে, শবে বরাতের মূল তাৎপর্য হলো আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা, নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা।
হাদিসে শবে বরাতের মর্যাদা
হাদিসে বর্ণিত আছে, শাবান মাসের ১৫তম রাতে (শবে বরাত) আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন—যদি তারা শিরক বা হিংসা থেকে মুক্ত থাকে।
মাংস, হালুয়া-রুটি ও ফাতেহা সম্পর্কে মতামত
আলেমদের একটি বড় অংশের মতে—
খাবার রান্না বা খাওয়ানো নিজে কোনো ইবাদত নয়, তবে তা যদি দান-সদকা বা আত্মীয়-স্বজনের আপ্যায়নের নিয়তে হয়, তাহলে তা সওয়াবের কাজ হতে পারে।
হালুয়া-রুটি বা বিশেষ খাবারকে শবে বরাতের ‘অবশ্য পালনীয় আমল’ মনে করা ঠিক নয়—কারণ কোরআন বা সহিহ হাদিসে এর নির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই।
ফাতেহা বা দোয়া করে মৃতদের জন্য সওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত বহু আলেম জায়েজ মনে করেন, তবে এটিকে শবে বরাতের নির্দিষ্ট আমল হিসেবে প্রচার করাকে কেউ কেউ বিদআত বলে থাকেন।
কী করলে সুন্নাহর কাছাকাছি হবে?
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন—
নফল নামাজ
কোরআন তিলাওয়াত
তওবা ও ইস্তিগফার
নিজের ও উম্মাহর জন্য দোয়া
এসব আমলই শবে বরাতের মূল চেতনার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আলেমদের আহ্বান
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়েছেন—শবে বরাতকে যেন লোকাচার বা প্রদর্শনমূলক আয়োজনে সীমাবদ্ধ না করে, বরং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের রাত হিসেবে পালন করা হয়। একই সঙ্গে ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তারা গুরুত্ব দেন।
এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।